গুরুপ্রণাম

“জ্ঞানের নিধান আদিবিদ্বান কপিল সাঙ্খ্যকার
এই বাঙলার মাটিতে গাঁথিল সূত্রে হীরক-হার।” – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

বাংলার আদি ধর্ম যদি কিছু বলতে হয় তা হল সাঙ্খ্য। প্রকৃতি উপাসনার একটি সঙ্গবদ্ধ রূপ দিয়েছিল এই সাঙ্খ্যদর্শন, যা ক্রমে বিস্তৃত হয়েছে শুধু বাংলায় নয় বরং সমগ্র ভারত জুড়েই। বাংলার ধর্মের বিচার করতে গেলে দেখা যায় বাংলায় যুগ যুগ ধরে চলে আসা বিভিন্ন ঐতিহ্য নিহিত রয়েছে প্রকৃতি-পুরুষ দ্বৈতবাদেই। বঙ্কিম বলছেনঃ

“সাংখ্যের প্রকৃতি পুরুষ লইয়া তন্ত্রের সৃষ্টি। সেই তান্ত্রিককাণ্ডে দেশ ব্যাপ্ত হইয়াছে। … সেই তন্ত্রের প্রসাদে আমরা দুর্গোৎসব করিয়া এই বাঙ্গালা দেশের ছয় কোটি লোক জীবন সার্থক করিতেছি। যখন গ্রামে গ্রামে, নগরে মাঠে জঙ্গলে শিবালয়, কালীর মন্দির দেখি, আমাদের সাংখ্য মনে পড়ে; যখন দুর্গা কালী জগদ্ধাত্রী পূজার বাদ্য শুনি, আমাদের সাংখ্যদর্শন মনে পড়ে।

সহস্র বৎসর কাল বৌদ্ধধর্ম্ম ভারতবর্ষের প্রধান ধর্ম্ম ছিল। ভারতবর্ষের পুরাবৃত্ত মধ্যে যে সময়টি সর্ব্বাপেক্ষা বিচিত্র এবং সৌষ্ঠব-লক্ষণযুক্ত, সেই সময়টিতেই বৌদ্ধধর্ম্ম এই ভারতভূমির প্রধান ধর্ম্ম ছিল।ভারতবর্ষ থেকে দূরীকৃত হইয়া সিংহলে, নেপালে, তিব্বতে, চীনে, ব্রহ্মে, শ্যামে এই ধর্ম্ম অদ্যাপি ব্যাপিয়া রহিয়াছে। সেই বৌদ্ধধর্ম্মের আদি এই সাংখ্যদর্শনে। বেদে অবজ্ঞা, নির্ব্বাণ, এবং নিরীশ্বরতা, বৌদ্ধধর্ম্মে এই তিনটি নূতন; এই তিনটিই ঐ ধর্ম্মের কলেবর। উপস্থিত লেখক কর্ত্তৃক ১০৬ সংখ্যক কলিকাতা রিবিউতে ‘বৌদ্ধধর্ম্ম এবং সাংখ্যদর্শন’ ইতি প্রবন্ধে প্রতিপন্ন করা হইয়াছে যে, এই তিনটিরই মূল সাংখ্যদর্শনে। নির্ব্বাণ, সাংখ্যের মুক্তির পরিমাণ মাত্র। “

যেমন বাল্মীকি হলেন আদিকবি, তেমন আদিবিদ্বান হলেন মহর্ষি কপিল। এই বাংলায় তাঁর জন্মস্থান খুলনা জেলায়। খুলনা জেলায় পাইকগাছা উপজেলায় কপিলমুনি ইউনিয়ন অদ্যবধি বিদ্যমান। এছাড়া গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির আশ্রম একটি বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র। বাঙালির সাথে তাঁর নাড়ীর বন্ধন যে এখনো ছিন্ন হয়নি তার একটি প্রমাণ যেমন উত্তর কোলকাতার শরবতের দোকান কপিলাশ্রম।

সাঙ্খ্য সম্পর্কে অধ্যাপক রিচার্ড গার্বে লিখেছেন,

“In Kapila’s doctrine, for the first time in the history of the world, the complete independence and freedom of the human mind, its full confidence in its own powers were exhibited.”

এরই ফল হয়তো বাঙালি বয়ে চলেছে তার পরের আড়াই সহস্র বছর ধরে। প্রাচীন বাংলা ছিল বৌদ্ধধর্মের চারণভূমি। সেই বুদ্ধের জন্মের স্থানের নামও আশ্চর্যজনকভাবে হল কপিলবস্তু। হয়তো সেই সাঙ্খ্যকারদের ভূমি এবং তার সংস্কৃতির প্রভাবেই গড়ে উঠেছে বৌদ্ধধর্ম, যাতে কপিলের প্রভাব স্পষ্ট। বজ্রযান এবং সহজযানের মাধ্যমেই বাংলা পেয়েছে তার শাক্ত ও বৈষ্ণবধারা। মৎস্যেন্দ্রনাথ হোক, শ্রীচৈতন্য হোক বা কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ, আদিবিদ্বান রয়ে গিয়েছেন বাঙালির আদিগুরু। গুরুপূর্ণিমার পুণ্য তিথিতে সেই গুরুর প্রতিই সশ্রদ্ধ প্রণাম।

কৃতজ্ঞতাঃ
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ডঃ তমাল দাশগুপ্ত
ইমন জুবায়ের

Advertisements

তো, বাদুড়িয়া থেকে আমরা কি শিখলাম?

অতিথি লেখক
baduria
(আলোকচিত্র কৃতজ্ঞতা স্বীকার Financial Express)
প্রশ্নটা কি ঠিক হল?

কারণ ম‍্যাক্সিমাম হিন্দু সেকুলার হবার চাপে, মানে আজন্ম লালিত “সহাবস্থান” নামক অবাস্তব ধ‍্যানধারণার কল‍্যাণে প্রাণপনে এটা ভুলতে চায় যে একটি খাঁচার ভেতর একটি নেকড়ে আর একটি ছাগল রেখে যত‌ই উভয়কে সহাবস্থান শেখানো হোক, নেকড়েটি ঘাস খাবে না। নেকড়ের মেটাবলিজম‌ই তাকে বাধা দেবে। তবু আশায় বাঁচে ছাগল, নেকড়ের পাল একদিন তুলে নেবে বুকে। চুমু খাবে কপালে, চিবুকে…

যাই হোক প্রসঙ্গে ফিরি।

বাদুড়িয়ার থেকে কি শিখলাম বলার আগে জানতে হবে বাদুড়িয়ায় কি হল।
কারণ ম‍্যাক্সিমাম মধ্যবিত্ত বাঙালী হিন্দু তা জানেই না। বাদুড়িয়ায় একটি ১৭ বছরের ছেলে একটি ফেসবুক পোস্ট দেয় মুহম্মদ ও আল্লা সম্পর্কে, যাতে মুহম্মদ ও আল্লাহ্‌র সম্মান ভুলুন্ঠিত হয়।

তারপর “সন্ধ‍্যার শ্মশান, ডাক দেয় আজান..” ইত‍্যাদি করে সেই ইসলাম অবমাননাকারীর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, আরো হিন্দুর বাড়ি জ্বালানো, মন্দির ভাঙা, থানায় আগুন, পুলিশের পলায়ন, দুই লক্ষ‍ ভ্রাতৃবাহিনীর তান্ডবনৃত‍্য।

তাই তো! ঠিক‌ই তো। আল্লাহ্ বা মুহম্মদের সম্মান ভুলুন্ঠিত হবে কেন? ইসলাম কি ফাজলামোর জিনিস নাকি???

আসুন পাঠক, এই ফাঁকে আমরা একটু প্রগতিশীলতা শিখি। এই পোস্টে আমার সাধ‍্যমত কটা ছবি দেব।

hinduphobia1

যেগুলো যাদবপুর তথা পশ্চিমবঙ্গের বামেদের পোস্ট করা। সব দিতে পারলাম না, আপনারা টুকটাক জানেন। কখনো হিন্দুর আরাধ‍্য শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরানো, কখনো “লাথি মেরে কার্তিক ফেলে” দেওয়ার বর্ণনা, কখনো হিন্দু দেবী কালীকে মদের গ্লাস হাতে দিয়ে যীশুর কোলে বসানো, কখনো দুর্গাকে বেশ‍্যা বলে, ভ‍্যাজিনা লিকিং এর ছবি যাদবপুরের দেওয়ালে আঁকা, কখনো রামকৃষ্ণদেব ও সারদা নিয়ে পর্ণোগ্রাফি লেখা…… লিস্টে বড় বড় বিদগ্ধ বিপ্লবী বামের নাম।

hinduphobia2

এই প্রসঙ্গে আমার মনে পড়ছে, হিন্দুদেবী কালী নিয়ে পোস্ট করে এক বিপ্লবসঙ্গমী যাদবগাছির বাম লিখেছিলেন তিনি নাকি ধর্মকে আক্রমণ করছেন, এবং “মুহম্মদের ছবি নেটে খুঁজে পেলে” নাকি তিনি দিতেন…

না তিনি “মুহম্মদের ছবি” খুঁজে পান নি। কেন পাননি? এইটাই আমাদের বোঝালো বাদুড়িয়া।

 

এই প্রসঙ্গে আরো একরকম মহাবিপ্লবী দৃষ্টিকোণ পাচ্ছি। সেটা হল সৌভিক নামক ছেলেটি “ভুল পোস্ট” করেছে। উস্কানিমূলক পোস্ট নাকি বিপ্লবের পশ্চাদ্‌প্রহার করে দেয়। কারণ সেই পোস্ট মুহম্মদ ও আল্লার সম্মানহানি করেছে। তাতে বিপ্লবীদের ছিন্নচর্ম “বন্ধুদের নাকি সন্দেহের দৃষ্টি” বেড়ে যাচ্ছে, আর তারা একটু মালাউন পিটাচ্ছে।

 

এই মহাবিপ্লবী বাম দৃষ্টিকোণে কার্তিক মুর্তি লাথি মেরে গর্বিত পোস্ট দেওয়া, শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরিয়ে প্রগতিসঙ্গম করা এসব “ঠিক পোস্ট”…

কারণ, হিন্দুদের দেবদেবীদের, হিন্দুদের সংস্কারের, হিন্দুদের বাপ মায়ের বিশ্বাসের, এমনকি হিন্দু পরিচয়ের‌ই কোন সম্মান প্রগতিসঙ্গমী বামেদের কাছে নেই। কিন্তু ইসলামের সম্মান বিষয়ে টনটনে জ্ঞানে “ভুল”, “উস্কানি” ধরার ক্ষমতা কিন্তু তাদের চরমভাবে আছে।মনে রাখবেন পাঠক, আমি মনগড়া কথা বলছি না, উপরে বর্ণিত হিন্দু সেন্টিমেন্ট নিয়ে নোংরামী করা একটি পোস্টকেও “ভুল” বলামাত্র তারা তাদের  বন্ধু ভ্রাতা ভগিনী হাজি কাজি পাজী, হক বক ছক সবাইকে নিয়ে উক্ত পোস্টগুলির নিন্দাকারীদের “গরুর বাচ্চা” ইত‍্যাদি বলে অভিহিত করেছিলেন। অর্থাৎ এই বামৈস্লামিকদের কাছে হিন্দুদের উপাস‍্য নিয়ে নোংরামীর প্রতিবাদকারীরা “গরুর বাচ্চা”, কিন্তু ইসলামী উপাস‍্যদের নিয়ে কিছু বলা হলে, তা “উস্কানিমূলক ও না-জায়েজ”।

হে পাঠক, আমি নাহয় “গরুর বাচ্চা”। আপনিই বলুন তবে, “শুয়োরের বাচ্চা” কারা??

তাহলে হে পাঠক, বাদুড়িয়ার ভ্রাতৃবাহিনী এটাও শেখাল যে এই প্রগতিদের কিভাবে “ভুল-ঠিক”এর বোধ দেওয়া যায়।

না না, এখানেই প্রগতিরমণ শেষ নয়। আরো একটু বিস্তারিত করুন হে পাঠক।

মকবুল ফিদা হোসেন একদিন পূণ‍্যপ্রভাতে তিনি কাকের ঠ‍্যাং বকের ঠ‍্যাংয়ের মতো করে দুই পা দুইদিকে ছড়ানো একটি ন‍্যাঙটো মেয়ের ছবি আঁকলেন। ও ছবি আদৌ ফুটেজ পেত না। তাই তলায় লিখে দিলেন “সরস্বতী”…. লিখে না দিলে ও বালছাল “সিল্পো” দুচারটা শিল্পবোদ্ধা গান্ডু ছাড়া কেউ পাত্তাও দিত না। তাই, নিরাপদ বাজার টার্গেট কে হবে?

হিন্দু দেবী। হিন্দুরা সংস্কৃতিসঙ্গমী, তাই তাদের পশ্চাদমৈথুন সহজ। হিন্দু দেবীর কাপড় খুলে ইসলামি আর্টিস্টের নামাজ পড়তে যাওয়াকে বলে আর্ট মারানো।

বাদুড়িয়া শেখালো, কেন মহান “সিল্পি” মকবুল ফিদা হুসেন ঐ খ‍্যাংড়া মার্কা ছবির নাম সরস্বতী দিয়েছেন, আয়েশা বা উম্মেহানি দেন নি। বাদুড়িয়া জানালো ভ্রাতৃবাহিনীর ভ্রাতৃত্ববোধ প্রলয় আনতে পারে।

প্রখ‍্যাত ব্রাহ্ম শ্রী সুকুমার রায় বা ন‌ব-খ্রীষ্টান কবি মাইকেল মধুসুদন দত্ত হিন্দুর আরাধ‍্য রাম নিয়ে চরম অপমানজনক সাহিত‍্য করে, হিন্দুর মধ‍্যেই বিক্রি করে সাহিত‍্যিক হতে পারেন। কিন্তু নবীজীর লীলাকীর্তন রঙ্গিলা রসুল লিখলে খুন হতে হয়।

বাদুড়িয়া শেখালো ভ্রাতৃবাহিনীরা এখনো সেই ট্র‍্যাডিশন বয়ে নিয়ে চলছে, সে সামর্থ‍্য তারা রাখে। তারা বীর, তারা সাহসী।

 

আমার কথাগুলো বিশ্রী লাগছে তো?? শিল্প সাহিত‍্যের সিলেকটিভ প্রগতিরতি ফাঁস হয়ে গেলে একটু খারাপ তো লাগবে ভাইজান। সেন্টি খাওয়া ছেড়ে বরং বলুন উপরে ঠিক কোন কথাটা সঠিক নয়? যারা এতকাল হিন্দুধর্মকে নোংরা থেকে নোংরাতম আক্রমণ করাকেই প্রগতিশীলতা বলে গেল, তারা কি
ভাবে ইসলামী ভাবাবেগ আহত হ‌ওয়াতেই “উস্কানি”র গন্ধ পেয়ে গেল?

 

কারণটা বলি শুনুন। বিশ্বাস করা না করা আপনার ব‍্যাপার। প্রগতিসঙ্গমী বামেরা জানে কাদের পাঞ্জায় নখ আছে।

প্রথমে বলা নেকড়ে ও ছাগলের উদাহরণে ফিরি‌। বামেরা জানে, খাঁচায় শুধু নেকড়ে আর ছাগল তো নেই, লালচে শুয়োরের বাচ্চাও আছে। সেই শুয়োরের বাচ্চারা খুব ভালো করেই জানে কোন ভোটপ্রার্থী নেকড়ে যত‌ই নেকড়ে ও ছাগলকে দুটি কুসুম বানিয়ে সিল্পোসাইত‍্যো করুক, আদপে নেকড়ের থাবার সামনে শুকরের জীবনের ঝুঁকিও ছাগলের মতোই। তাই নেকড়ের সেন্টিমেন্ট সামান‍্য আহত হলেই তারা যখন ছাগল মারে, তখন শুয়োরের বাচ্চারা অজুহাত খাড়া করে। আবার কখনো কখনো যদি অনেক ছাগলপাল অতিষ্ঠ হয়ে একটা নেকড়ের বাচ্চা মেরে দেয়, তখন শুয়োরের বাচ্চারা শোকে দুঃখে উন্মাদপ্রায় হয়ে পড়ে। কারণ তারা সন্ত্রস্ত হয় এই ভেবে যে, যদি ভুল বুঝে নেকড়ে তার থাবা শুয়োরদের উপর‌ও চালিয়ে দেয়….
সৌভিককে ধন‍্যবাদ যে সে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে শুধু নেকড়ের পালকে এক্সপোজ করেনি, বরং প্রগতিরমণকারীগণের ইসলামের সেবাদাসবৃত্তিও এক্সপোজ করেছে।

পাঠক নিশ্চয়‌ই মনে করে দেখবেন, “গোরক্ষক” আসার আগে কিন্তু “কৈরানা” হয়েছিল। হিন্দু মহাসভা আসার আগে মুসলিম লিগ।

ইসলাম তার নিজের জন‍্য আলাদা জমি আগে দেশভাগের সময় নিয়ে নিয়েছ ক‍রেছে। সেখান থেকে খুন, জখম, ধর্ষণ, ইত‍্যাদি বহুপ্রকার শান্তিপ্রিয় পদ্ধতিতে হিন্দুদের নির্মূল করেছে । এখন তারা আরো জমি চায়।

প্রশ্ন হল, আপনি কি তা দিতে চান? যদি না চান তাহলে কি করবেন?

আমার মতে, সঙ্ঘশক্তিতে মনোযোগী হোন। সঙ্ঘশক্তি মানে কোন ভোটবাজারি “গল্পদাদুর আসর” নয় বা নির্দিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠান‌ও নয়, সঙ্ঘশক্তি মানে পাশের মানুষটির হাতে হাত ধরে দাঁড়ানো এবং তাকে নেকড়ে বা বামৈস্লামিক শুকরপালের সাথে মানুষের পার্থক‍্য বুঝিয়ে উদ্বুদ্ধ করা যাতে সে তার অপর পাশের মানুষটির হাতে হাত ধরতে পারে।

সঙ্ঘশক্তি মানে একত্ববোধ। নিজের ব‍্যক্তিগত সুবিধা দুরে সরিয়ে সমাজগত পরিচিতি রক্ষার লড়াই।

নিজের শিকড় চিনুন। পাশের লোকটিকে চেনাতে চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে নিজের অভিজ্ঞতা লিখুন, ছড়িয়ে দিন।

দেখতেই পাচ্ছেন, এখানকার গণমাধ্য়ম যথাসম্ভব চেপে দিয়ে থাকে নেকড়েদের আক্রমণ। অর্থাৎ সতর্ক না হলে হঠাৎ একদিন আক্রান্ত হবেন। এখন‌ই হাতে হাত দিয়ে প্রস্তুত হোন, দায়িত্ব নিন আগামীর‌।

ভারতীয় দর্শন বলে “চক্রবৎ পরিবর্তন্তে দুঃখানি চ, সুখানি চ।”

মুন্নে ভারতী এবং আনন্দবাজারের কল্পলোক

আনন্দবাজার আজ লিখেছে,

বিহারে বজরঙ্গ দল নতুন ‘রঙ্গ’ দেখিয়েছে। এক সাংবাদিকের গাড়ি থামিয়ে বজরঙ্গিদের নির্দেশ— ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে হবে। না বললে গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। ঘটনাটা সাংবাদিকের সঙ্গে ঘটেছে, বড় বিষয় এটা নয়।

এরপর প্রবন্ধটি গতানুগতিক সাংস্কৃতিক মার্ক্সবাদের চিরায়ত ধারা অনুসরণ করেছে। সংক্ষেপে,

ক) এই কাজ থেকে প্রমাণ হয়ে গেছে যে বজরঙ্গ দল ফ্যাসিস্ট (অর্থ জিজ্ঞাসা করে লজ্জা দেবেন না। কেউ কি জানে এর মানে কি? শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা জ্যোতি বসু কোনদিন নিজেদের ছাড়া অন্যের মতকে সম্মান না দিয়েও গণতন্ত্রী আর জোট সরকার চালিয়েও মোদি ফ্যাসিস্ট।)

খ) সুতরাং হিন্দুত্বের কোন ভাল কিছু নেই।

গ) সুতরাং ভোটটা বিজেপি কে দেবেন না।

প্রশ্ন হল, কে এই সাংবাদিক যিনি হুমকির স্বীকার। এই সাংবাদিক ভদ্রলোকের নাম মুন্নে ভারতী এবং কাজ করেন NDTV তে। ভদ্রলোকের স্ত্রী বোরখা পরে ঘোরেন। ভদ্রলোক নিজের পরিচয় ঊর্দ্দুতে লিখতে স্বচ্ছন্দ।

NDTV এর সাংবাদিক দের সাংবাদিকতা অতি প্রসিদ্ধ – দেখুন সুনেত্রা চৌধুরীর মিথ্যাচারিতা, বরখা দত্তের অন্তহীন চাতুরি, নিধি রাজদানের মিথ্যা প্রচার, তেমনই এও জানা কথা যে তাদের প্রতারণার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ায় তাদের বিজেপি সরকারের উপর আক্রোশ সীমাহীন। এই সংস্থার এক সাংবাদিক কি এই কথাটি কল্পনা করে বলতে পারেন না যে তাঁকে বজরং দলের লোক হুমকি দিয়েছে?

মুন্নে ভারতীর কথার কি কোন সাক্ষী আছে নিজের পরিবারের লোক ছাড়া? আছে কি অন্য কোন প্রমাণ তাঁর অভিযোগের পক্ষে?

আমাদের জানা নেই। আপনাদের জানা থাকলে জানাবেন। অপেক্ষায় থাকব।

এও কি সম্ভব যে আনন্দবাজারের এসব জানা আছে আর জেনেও না জানার ভান করছে? আপনাদের কি মনে হয়?

আজকের খবর

1. কোলাঘাটে সাম্প্রদায়িক আক্রমণ এবং প্রশাসনের নির্লজ্জ আত্মসমর্পণ। বাড়ি ফেরার পথে প্রাথমিক আক্রমণ প্রতিরোধের পরে খাড়া নেমে আসে তার বাড়ির উপর। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছে তাকেই। 

2. বাদুরিয়া জ্বলছে। কাবা শরীফ নিয়ে ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে 17 বছরের বালক সৌভিক সরকার। প্রথমে অবরোধ করা হয় রুদ্রপুর বাজার, এবং সৌভিকের ফাঁসির দাবি করা হয়। আপাতত পুলিস আক্রান্ত হওয়ার পরে তারা সেনা নামানোর ভাবনায়

বাংলাদেশে প্রতিমা, বনগাঁয় প্রতিমা-পূজার বেদী ভাঙচুর

১। বাংলাদেশের গাজীপুরে ৮টি প্রতিমার ভাংচুর কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

২। বনগাঁয় ঈদের পোস্টার ঝোলানোর সময়, অন্ধকারে এলাকার কিছু দুষ্কৃতী শাবল দিয়ে পাথরের ঠাকুরের বেদি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ

৩। বাসন্তীতে হিন্দু সংহতির সভা শেষে কর্মী সমর্থকরা বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথে তাদের উপর আক্রমণ বাসন্তী চৌমাথা মসজিদ মোড়ে।

গরুচুরি থেকে সত্য চুরি

‘জুনেদ’- এই একটি নাম সম্বল করে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গের বিবেকহীন বুদ্ধিজীবীমহল। মধুসূদন মঞ্চে তারা এক সরকারী পৃষ্ঠপোষিত তথাকথিত প্রতিবাদে নাম লিখিয়েছে । ভারতের একটি ‘lynch map’ উঠে এসেছে এই তথাকথিত আন্দোলনের হাত ধরেই, যেখানে স্বাভাবিকভাবেই স্থান পায়নি শ্রীনগরের মহম্মদ আয়ুব পণ্ডিত অথবা পুনের সায়ন রাঠোর

অলীক কুনাট্য রচনার ক্ষেত্রে তো অনেক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে ইন্দ্রজিৎ দত্ত মহরমের চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় যাঁকে প্রাণ হারাতে হযেছিল। এই সব হত্যা তাই হয়ে যায় নিছক Statistics আর জুনেদ স্থান পায় ইতিহাসের খাতায়। Statistics এর কথাই যখন উঠল, তখন এটা জানিয়ে রাখা ভালো যে গত সাত বছরে গরু ঘটিত কারণে প্রাণ হারিয়েছে ২৮ জন যা সমস্ত হত্যার ০.০১ শতাংশ। অবশ্যই সরকারী পোষণ তো আর সত্যান্বেষণে পাওয়া অসম্ভব।

এছাড়া ২০১২ এবং ২০১৩’র হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছিল প্রাক্তন ইউপিয়ে সরকারও, তবে তার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনার ধৃষ্টতা তো দেখাতে পারেন না এই বুদ্ধিজীবীকুল।

আবার মজার ব্যাপার হল ‘lynch map’য়েই  স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে চোপরায় গণপ্রহারে মৃত তিন ব্যক্তি, যাদের সেখানকার তৃণমূল বিধায়ক  নিজেই গরুচোর বলে চিহ্নিত করতে বাধ্য হয়েছেন।  গ্রামবাসীদের মতে পুলিশ গরুচুরির সমস্যা তাদের নিজেদেরই সমাধান করার নির্দেশ দেয়। যারা দিনরাত অর্থনীতির কথা বলেন তাঁরা গ্রামবাসীদের গরুচুরির অর্থনৈতিক ক্ষতিকে গ্রাহ্য় করতেই রাজি নন। গ্রামবাসী কৃষ্ণপদ সরকারের হিসাবে একটি জার্সি গাই এবং একটি দেশী গাই মিলিয়ে মূল্য ৪৫,০০০ টাকা, যা সাধারণ গ্রামবাসীর পক্ষে যথেষ্টই। এই বিবেকহীন সরকারী পোষিত বুদ্ধিজীবীরা একমাত্র গরুচোরদের খাদ্যাভ্যাসের কথাই ভাবেন।

গরুচোরদের প্রতি এই সহানুভূতি কেন, তা আমাদের জানা নেই। তবে আমাদের জানা আছে যে গোভক্তি বাঙালির ঐতিহ্যর অংশ যা বোঝা যায় শ্রীহট্টের রাজা গৌরগোবিন্দের উপাখ্যানে (মুসলিম বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য, বাংলা অ্যাকাডেমি, প ২০৫) অথবা  ঠাকুরবাড়ির গোহত্যা বিরোধিতার এই খবর থেকেও । যে রবীন্দ্রনাথ বারম্বার উচ্চারিত হন বুদ্ধিজীবী সমাজের বক্তব্যে, তিনি নিজে নিঃসন্দেহে বিব্রত হতেন তাঁর তথাকথিত ভক্তকুলের আচরণে। দৈনিক প্রথম আলো থেকে দেখা যায়ঃ

শাহজাদপুরের অদূরে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে ঢাকা-বগুড়া সড়কে স্থাপিত সেতু থেকে সোজা পশ্চিমে তাকালে এক কিলোমিটার দূরেই দেখা যায়, বড়াল ও ধরলা নদীর মধ্যবর্তী জায়গার ওই জমি। এখানে ছিল কবির গো-খামার ও গো-চারণভূমি (বাথান)। এই গো-খামারের জন্য রবীন্দ্রনাথ পাঞ্জাবের শাহিওয়াল থেকে উন্নত জাতের ষাঁড় গরু এনে স্থানীয় গাই গরুর সঙ্গে ‘ক্রস’ করে ‘পাবনা ব্রিড’ নামের এক নতুন জাতের গো-প্রজাতি উদ্ভাবন করেছিলেন।

অর্থাৎ, সমাজ সম্পর্কে সচেতনতার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে রবীন্দ্রনাথ রেখেছিলেন গোভক্তিকেও। হয়তো রবীন্দ্রনাথের এই ব্যক্তিজীবনের অংশগুলিই ‘ধুতে হবে এবং মুছতে হবে’ মৌসুমি ভৌমিকদের।

আনন্দবাজারে বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উপর “হিন্দু সঙ্ঘীয়দের আক্রমণ”এর পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটা হয়েছে আরেকবার, বস্তুত যার বেশিভাগ ক্ষেত্রে তদন্ত করে দেখা যায় যে তা সাম্প্রদায়িক আক্রমণ নয়। বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য হল নদীয়ার এক চার্চের ঘটনা, যা নিয়ে প্রচুর জলঘোলার পরে দেখা যায় যে প্রধান অভিযুক্ত একজন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী । এমন কি এই জুনেদের ঘটনাটিও, এই রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটেছিল বসার জায়গা নিয়ে বচসার কারণে। কৃষ্ণাঙ্গদের উপর আক্রমণের ক্ষেত্রেও অজস্র আক্রমণের উপাখ্যানের কথা বলেও উপস্থাপিত করা হয়েছে এই ঘোর দুর্দিনের মুখচ্ছবি, স্বাভাবিক ভাবেই এই ধরণের ঘটনার ক্ষেত্রেও সত্য দেখা গিয়েছে অনেকটা আলাদা

কিছু কিছু ‘সাংবাদিক’ অবশ্য তথ্যের মাধ্যমে তাদের দাবী ভুল প্রমাণিত হওয়ার পরেও শেষ খড়কুটোর মত আঁকড়ে ধরেছেন আবহের কথা। আবার আবহের কথা ধরেই মনে করতে হয় তাহলে ভারতের সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা এ কে এন্টোনির বক্তব্য, যার প্রতিফলন পাওয়া যেতে থাকছে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে। আবহ কেমনভাবে মানুষের কাছে প্রতিফলিত হবে সেটা একান্তভাবেই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, যা সমাজের চাপে সে প্রকাশ করতে না পারলেও গোপন ব্যালটে সে বাধার সম্মুখীন তাকে হতে হবে না।

তাপ-উত্তাপের প্রভাবে হয়তো প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য করিয়েছেন বক্তব্য রাখতে, তবে জনতার থার্মোমিটার কি আর ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর পারদে চলে সমস্ত সময়?

আজকের খবর: বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট, মালদায় ছাত্রীর উপর অত্যাচার

১। অধ্যাপক রোহান গুনারত্নে, সিঙ্গাপুর নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স অ্যান্ড টেররিজম রিসার্চের (আইসিপিভিটিআর) প্রধান, জানিয়েছেন যে ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনার মূলে আছে আই এস বা ইসলামিক স্টেট নামক আন্তর্জাতিক সংঘটনটি। প্রসঙ্গত জঙ্গিরা ছিল মূলতঃ শিক্ষিত এবং ধনী পরিবারের সন্তান এবং তারা হামলার সময় বেছে বেছে অ-মুসলমানদের হত্য়া করে। বাংলাদেশ সরকার ইসলামিক স্টেটের ভূমিকা অস্বীকার করেছে এই অছিলায় যে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংগঠনের জঙ্গিরা ইরাক বা সিরিয়া থেকে এসে বাংলাদেশে হামলা করে নি। অধ্যাপক গুনারত্নে জানান,

বিভিন্ন দেশে ক্রিয়াশীল বিদ্রোহী, সন্ত্রাসী, চরমপন্থীদের সদস্যপদ দেয় আইএস। এরপর তাদের নিজেদের আদর্শ ও রীতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। তামিমের সঙ্গে আইএসের বৈদেশিক শাখার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তিনি জেএমবিকে আইএসের সদস্যভুক্ত করে নেন। কয়েক শ জেমবি সদস্য আইএসের আদর্শ গ্রহণ করে হোলি আর্টিজানে হামলার আগে খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু ও বিদেশি নাগরিকদের ওপর হামলা করে।

২। মালদা জেলা ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি বাবুল শেখ এক ছাত্রীর বাড়িতে হামলা করেছেন, অভিযোগ। ছাত্রীর মা জানিয়েছেন,

ওই ছাত্রীর মা জানান, আমার মেয়েকে ওই ছেলেটা নানান ভাবে হেনস্থা করে। এই কারণে মেয়ের এক বছর পড়াশোনা নষ্ট হয়ে গেছে। মেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ছেলের কুকর্ম তুলে ধরে বারংবার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে ওই বাবুল। কাল রাতে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। মেয়ের পড়নের কাপড়েও আগুন লেগে গেছিল।