তো, বাদুড়িয়া থেকে আমরা কি শিখলাম?

অতিথি লেখক
baduria
(আলোকচিত্র কৃতজ্ঞতা স্বীকার Financial Express)
প্রশ্নটা কি ঠিক হল?

কারণ ম‍্যাক্সিমাম হিন্দু সেকুলার হবার চাপে, মানে আজন্ম লালিত “সহাবস্থান” নামক অবাস্তব ধ‍্যানধারণার কল‍্যাণে প্রাণপনে এটা ভুলতে চায় যে একটি খাঁচার ভেতর একটি নেকড়ে আর একটি ছাগল রেখে যত‌ই উভয়কে সহাবস্থান শেখানো হোক, নেকড়েটি ঘাস খাবে না। নেকড়ের মেটাবলিজম‌ই তাকে বাধা দেবে। তবু আশায় বাঁচে ছাগল, নেকড়ের পাল একদিন তুলে নেবে বুকে। চুমু খাবে কপালে, চিবুকে…

যাই হোক প্রসঙ্গে ফিরি।

বাদুড়িয়ার থেকে কি শিখলাম বলার আগে জানতে হবে বাদুড়িয়ায় কি হল।
কারণ ম‍্যাক্সিমাম মধ্যবিত্ত বাঙালী হিন্দু তা জানেই না। বাদুড়িয়ায় একটি ১৭ বছরের ছেলে একটি ফেসবুক পোস্ট দেয় মুহম্মদ ও আল্লা সম্পর্কে, যাতে মুহম্মদ ও আল্লাহ্‌র সম্মান ভুলুন্ঠিত হয়।

তারপর “সন্ধ‍্যার শ্মশান, ডাক দেয় আজান..” ইত‍্যাদি করে সেই ইসলাম অবমাননাকারীর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, আরো হিন্দুর বাড়ি জ্বালানো, মন্দির ভাঙা, থানায় আগুন, পুলিশের পলায়ন, দুই লক্ষ‍ ভ্রাতৃবাহিনীর তান্ডবনৃত‍্য।

তাই তো! ঠিক‌ই তো। আল্লাহ্ বা মুহম্মদের সম্মান ভুলুন্ঠিত হবে কেন? ইসলাম কি ফাজলামোর জিনিস নাকি???

আসুন পাঠক, এই ফাঁকে আমরা একটু প্রগতিশীলতা শিখি। এই পোস্টে আমার সাধ‍্যমত কটা ছবি দেব।

hinduphobia1

যেগুলো যাদবপুর তথা পশ্চিমবঙ্গের বামেদের পোস্ট করা। সব দিতে পারলাম না, আপনারা টুকটাক জানেন। কখনো হিন্দুর আরাধ‍্য শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরানো, কখনো “লাথি মেরে কার্তিক ফেলে” দেওয়ার বর্ণনা, কখনো হিন্দু দেবী কালীকে মদের গ্লাস হাতে দিয়ে যীশুর কোলে বসানো, কখনো দুর্গাকে বেশ‍্যা বলে, ভ‍্যাজিনা লিকিং এর ছবি যাদবপুরের দেওয়ালে আঁকা, কখনো রামকৃষ্ণদেব ও সারদা নিয়ে পর্ণোগ্রাফি লেখা…… লিস্টে বড় বড় বিদগ্ধ বিপ্লবী বামের নাম।

hinduphobia2

এই প্রসঙ্গে আমার মনে পড়ছে, হিন্দুদেবী কালী নিয়ে পোস্ট করে এক বিপ্লবসঙ্গমী যাদবগাছির বাম লিখেছিলেন তিনি নাকি ধর্মকে আক্রমণ করছেন, এবং “মুহম্মদের ছবি নেটে খুঁজে পেলে” নাকি তিনি দিতেন…

না তিনি “মুহম্মদের ছবি” খুঁজে পান নি। কেন পাননি? এইটাই আমাদের বোঝালো বাদুড়িয়া।

 

এই প্রসঙ্গে আরো একরকম মহাবিপ্লবী দৃষ্টিকোণ পাচ্ছি। সেটা হল সৌভিক নামক ছেলেটি “ভুল পোস্ট” করেছে। উস্কানিমূলক পোস্ট নাকি বিপ্লবের পশ্চাদ্‌প্রহার করে দেয়। কারণ সেই পোস্ট মুহম্মদ ও আল্লার সম্মানহানি করেছে। তাতে বিপ্লবীদের ছিন্নচর্ম “বন্ধুদের নাকি সন্দেহের দৃষ্টি” বেড়ে যাচ্ছে, আর তারা একটু মালাউন পিটাচ্ছে।

 

এই মহাবিপ্লবী বাম দৃষ্টিকোণে কার্তিক মুর্তি লাথি মেরে গর্বিত পোস্ট দেওয়া, শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরিয়ে প্রগতিসঙ্গম করা এসব “ঠিক পোস্ট”…

কারণ, হিন্দুদের দেবদেবীদের, হিন্দুদের সংস্কারের, হিন্দুদের বাপ মায়ের বিশ্বাসের, এমনকি হিন্দু পরিচয়ের‌ই কোন সম্মান প্রগতিসঙ্গমী বামেদের কাছে নেই। কিন্তু ইসলামের সম্মান বিষয়ে টনটনে জ্ঞানে “ভুল”, “উস্কানি” ধরার ক্ষমতা কিন্তু তাদের চরমভাবে আছে।মনে রাখবেন পাঠক, আমি মনগড়া কথা বলছি না, উপরে বর্ণিত হিন্দু সেন্টিমেন্ট নিয়ে নোংরামী করা একটি পোস্টকেও “ভুল” বলামাত্র তারা তাদের  বন্ধু ভ্রাতা ভগিনী হাজি কাজি পাজী, হক বক ছক সবাইকে নিয়ে উক্ত পোস্টগুলির নিন্দাকারীদের “গরুর বাচ্চা” ইত‍্যাদি বলে অভিহিত করেছিলেন। অর্থাৎ এই বামৈস্লামিকদের কাছে হিন্দুদের উপাস‍্য নিয়ে নোংরামীর প্রতিবাদকারীরা “গরুর বাচ্চা”, কিন্তু ইসলামী উপাস‍্যদের নিয়ে কিছু বলা হলে, তা “উস্কানিমূলক ও না-জায়েজ”।

হে পাঠক, আমি নাহয় “গরুর বাচ্চা”। আপনিই বলুন তবে, “শুয়োরের বাচ্চা” কারা??

তাহলে হে পাঠক, বাদুড়িয়ার ভ্রাতৃবাহিনী এটাও শেখাল যে এই প্রগতিদের কিভাবে “ভুল-ঠিক”এর বোধ দেওয়া যায়।

না না, এখানেই প্রগতিরমণ শেষ নয়। আরো একটু বিস্তারিত করুন হে পাঠক।

মকবুল ফিদা হোসেন একদিন পূণ‍্যপ্রভাতে তিনি কাকের ঠ‍্যাং বকের ঠ‍্যাংয়ের মতো করে দুই পা দুইদিকে ছড়ানো একটি ন‍্যাঙটো মেয়ের ছবি আঁকলেন। ও ছবি আদৌ ফুটেজ পেত না। তাই তলায় লিখে দিলেন “সরস্বতী”…. লিখে না দিলে ও বালছাল “সিল্পো” দুচারটা শিল্পবোদ্ধা গান্ডু ছাড়া কেউ পাত্তাও দিত না। তাই, নিরাপদ বাজার টার্গেট কে হবে?

হিন্দু দেবী। হিন্দুরা সংস্কৃতিসঙ্গমী, তাই তাদের পশ্চাদমৈথুন সহজ। হিন্দু দেবীর কাপড় খুলে ইসলামি আর্টিস্টের নামাজ পড়তে যাওয়াকে বলে আর্ট মারানো।

বাদুড়িয়া শেখালো, কেন মহান “সিল্পি” মকবুল ফিদা হুসেন ঐ খ‍্যাংড়া মার্কা ছবির নাম সরস্বতী দিয়েছেন, আয়েশা বা উম্মেহানি দেন নি। বাদুড়িয়া জানালো ভ্রাতৃবাহিনীর ভ্রাতৃত্ববোধ প্রলয় আনতে পারে।

প্রখ‍্যাত ব্রাহ্ম শ্রী সুকুমার রায় বা ন‌ব-খ্রীষ্টান কবি মাইকেল মধুসুদন দত্ত হিন্দুর আরাধ‍্য রাম নিয়ে চরম অপমানজনক সাহিত‍্য করে, হিন্দুর মধ‍্যেই বিক্রি করে সাহিত‍্যিক হতে পারেন। কিন্তু নবীজীর লীলাকীর্তন রঙ্গিলা রসুল লিখলে খুন হতে হয়।

বাদুড়িয়া শেখালো ভ্রাতৃবাহিনীরা এখনো সেই ট্র‍্যাডিশন বয়ে নিয়ে চলছে, সে সামর্থ‍্য তারা রাখে। তারা বীর, তারা সাহসী।

 

আমার কথাগুলো বিশ্রী লাগছে তো?? শিল্প সাহিত‍্যের সিলেকটিভ প্রগতিরতি ফাঁস হয়ে গেলে একটু খারাপ তো লাগবে ভাইজান। সেন্টি খাওয়া ছেড়ে বরং বলুন উপরে ঠিক কোন কথাটা সঠিক নয়? যারা এতকাল হিন্দুধর্মকে নোংরা থেকে নোংরাতম আক্রমণ করাকেই প্রগতিশীলতা বলে গেল, তারা কি
ভাবে ইসলামী ভাবাবেগ আহত হ‌ওয়াতেই “উস্কানি”র গন্ধ পেয়ে গেল?

 

কারণটা বলি শুনুন। বিশ্বাস করা না করা আপনার ব‍্যাপার। প্রগতিসঙ্গমী বামেরা জানে কাদের পাঞ্জায় নখ আছে।

প্রথমে বলা নেকড়ে ও ছাগলের উদাহরণে ফিরি‌। বামেরা জানে, খাঁচায় শুধু নেকড়ে আর ছাগল তো নেই, লালচে শুয়োরের বাচ্চাও আছে। সেই শুয়োরের বাচ্চারা খুব ভালো করেই জানে কোন ভোটপ্রার্থী নেকড়ে যত‌ই নেকড়ে ও ছাগলকে দুটি কুসুম বানিয়ে সিল্পোসাইত‍্যো করুক, আদপে নেকড়ের থাবার সামনে শুকরের জীবনের ঝুঁকিও ছাগলের মতোই। তাই নেকড়ের সেন্টিমেন্ট সামান‍্য আহত হলেই তারা যখন ছাগল মারে, তখন শুয়োরের বাচ্চারা অজুহাত খাড়া করে। আবার কখনো কখনো যদি অনেক ছাগলপাল অতিষ্ঠ হয়ে একটা নেকড়ের বাচ্চা মেরে দেয়, তখন শুয়োরের বাচ্চারা শোকে দুঃখে উন্মাদপ্রায় হয়ে পড়ে। কারণ তারা সন্ত্রস্ত হয় এই ভেবে যে, যদি ভুল বুঝে নেকড়ে তার থাবা শুয়োরদের উপর‌ও চালিয়ে দেয়….
সৌভিককে ধন‍্যবাদ যে সে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে শুধু নেকড়ের পালকে এক্সপোজ করেনি, বরং প্রগতিরমণকারীগণের ইসলামের সেবাদাসবৃত্তিও এক্সপোজ করেছে।

পাঠক নিশ্চয়‌ই মনে করে দেখবেন, “গোরক্ষক” আসার আগে কিন্তু “কৈরানা” হয়েছিল। হিন্দু মহাসভা আসার আগে মুসলিম লিগ।

ইসলাম তার নিজের জন‍্য আলাদা জমি আগে দেশভাগের সময় নিয়ে নিয়েছ ক‍রেছে। সেখান থেকে খুন, জখম, ধর্ষণ, ইত‍্যাদি বহুপ্রকার শান্তিপ্রিয় পদ্ধতিতে হিন্দুদের নির্মূল করেছে । এখন তারা আরো জমি চায়।

প্রশ্ন হল, আপনি কি তা দিতে চান? যদি না চান তাহলে কি করবেন?

আমার মতে, সঙ্ঘশক্তিতে মনোযোগী হোন। সঙ্ঘশক্তি মানে কোন ভোটবাজারি “গল্পদাদুর আসর” নয় বা নির্দিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠান‌ও নয়, সঙ্ঘশক্তি মানে পাশের মানুষটির হাতে হাত ধরে দাঁড়ানো এবং তাকে নেকড়ে বা বামৈস্লামিক শুকরপালের সাথে মানুষের পার্থক‍্য বুঝিয়ে উদ্বুদ্ধ করা যাতে সে তার অপর পাশের মানুষটির হাতে হাত ধরতে পারে।

সঙ্ঘশক্তি মানে একত্ববোধ। নিজের ব‍্যক্তিগত সুবিধা দুরে সরিয়ে সমাজগত পরিচিতি রক্ষার লড়াই।

নিজের শিকড় চিনুন। পাশের লোকটিকে চেনাতে চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে নিজের অভিজ্ঞতা লিখুন, ছড়িয়ে দিন।

দেখতেই পাচ্ছেন, এখানকার গণমাধ্য়ম যথাসম্ভব চেপে দিয়ে থাকে নেকড়েদের আক্রমণ। অর্থাৎ সতর্ক না হলে হঠাৎ একদিন আক্রান্ত হবেন। এখন‌ই হাতে হাত দিয়ে প্রস্তুত হোন, দায়িত্ব নিন আগামীর‌।

ভারতীয় দর্শন বলে “চক্রবৎ পরিবর্তন্তে দুঃখানি চ, সুখানি চ।”

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s